প্রতিবেদন

প্রবীণ ও ত্যাগী রাজনীতিক শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক

wazi ullahসাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, প্রবীণ ও ত্যাগী রাজনীতিক শাহজাহান কামাল সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিরহংকারী, জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এবং শান্তির রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর এ নিযুক্তিতে বিভিন্ন মহল অভিনন্দন ও স্বস্তি প্রকাশ করেছে। লক্ষ্মীপুরবাসীর বিশ্বাস, স্থানীয় ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুরূপ ত্যাগী, শান্তিকামী ও কল্যাণকামীদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেই দেশ ও জাতি আর পিছিয়ে থাকবে না।

স্বাধীনতার পর উন্নয়নে গতিশীলতা আনায়ন এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু সরকার। তখন জেলাগুলোতে গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়। জেলা গভর্নরদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। মূলতঃ যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রেখেছিলেন, সেসব মেধাবী ও জনপ্রিয় নেতাদের গভর্নরের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু জেলা গভর্নরদের কর্মপরিকল্পনা সুচারুরূপে শুরুর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় জিয়াউর রহমান সরকার, তাঁরা বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক গৃহীত সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিমালা বদলে ফেলেন। জেনারেল জিয়াউর রহমানের হত্যার পর জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা উপজেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু মাঝখানে খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকার এরশাদের উপজেলা পদ্ধতি বাতিল করে দেন। অবশ্য ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার উপজেলা পদ্ধতি পুনঃচালু করে স্থানীয় সরকার প্রশাসনে গতিশীলতা আনয়নের উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসন গতিশীল হলেও জেলা প্রশাসন সক্রিয় হয়নি। সরকারি আমলাদের দ্বারা এতদিন জেলা পরিষদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।

দিনবদলের সরকার জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনকে গতিশীল এবং উন্নয়নমুখী গতিধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে সরকার দেশের ৬৪টি জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদকালের বাকি রয়েছে মাত্র দু’বছর। এর মধ্যে সরকারের প্রতিশ্রুত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকগণের রয়েছে বিরাট দায়িত্ব। সেজন্য সরকার দক্ষ, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী জনপ্রতিনিধিদের নিয়োগ দিয়েছেন জেলা পরিষদ প্রশাসনে। নিয়োগকৃত জেলা প্রশাসকগণ দ্রুত কাজকর্ম গোছাচ্ছেন, কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছেন।

বৃহত্তর নোয়াখালীর ৩ জেলায়ও জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল। সম্প্রতি তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।

শাহজাহান কামাল -এর পরিচিতি
এ কে এম শাহজাহান কামাল ১৯৪৫ সালে লক্ষ্মীপুর সদরের আঠিয়াতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী ফরিদ আহমেদ, মাতা আলহাজ্ব মোসাম্মাৎ মাসুমা খাতুন। ৩ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।

শিক্ষাজীবন শুরু হয় লাহারকান্দি প্রাইমারী স্কুলে, ১৯৬৩ সালে লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল থেকে মেট্রিক পাস করেন; ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন চৌমুহনী কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে এবং স্নাতক ডিগ্রি পাস করেন ১৯৬৮ সালে চৌমুহনী কলেজ থেকে। ছাত্রাবস্থায়ই রাজনীতির দীক্ষা গ্রহণ করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন; মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

শাহজাহান কামাল ১৯৭৪ সালে ফেরদৌসী কামাল -এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা ৩ মেয়ে ও ১ পুত্র সন্তানের জনক-জননী। কর্মজীবনে শাহাজাহান কামাল রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়েও জড়িত। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর কলেজ ও লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লক্ষ্মীপুর বার্তা’র সাথে গেল বছর একান্ত সাক্ষাৎকারে শাহজাহান কামাল বলেন, লক্ষ্মীপুরে নদী-বন্দর স্থাপিত হলে শিল্প-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।

সংসদ-সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মতানৈক্যের প্রেক্ষিতে উন্নয়ন-অগ্রগতিতে বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমস্যা হচ্ছে সে ধরনের সমস্যা তাঁর জেলা লক্ষ্মীপুরে হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তখন। এ ব্যাপারে তিনি সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর নোয়াখালীতে ১৩টি আসনের মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ মাত্র দু’টি আসনে জয়ী হয় -এর কারণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি তখন দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, রাজনীতির প্রথম শর্তই হলো দলকে সুসংগঠিত করা; ভাল লোক দিয়ে সংগঠন পরিচালনা করা; যারা দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করে, সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে থাকে, তাদেরকে দলে আনতে হবে। তিনি আরও বলেন- মানুষের কল্যাণে কাজের মাধ্যমে সংগঠনকে বিস্তৃত করা যায়, নিয়ে যাওয়া যায় সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। এ ধরনের কর্মতৎপরতা নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরাই করতে পারে।

শাহজাহান কামাল বৃহত্তর নোয়াখালীর শিল্পোদ্যোক্তাদের নিজ নিজ এলাকায় শিল্পস্থাপনে উদ্বুদ্ধকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিল্পোদ্যোক্তাগণকে আয়োজিত সেমিনারে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজ নিজ এলাকায় দু’একটি শিল্প স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করা যায়।

নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুরের মূল সমস্যা সম্পর্কে উল্লেখ করে শাহজাহান কামাল বলেন, লক্ষ্মীপুরের মূল সমস্যা হলো বেকারত্ব। এলাকায় কলকারখানা স্থাপিত না হবার কারণে অনেক শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবক বেকারত্বের অভিশাপ বহন করে চলেছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর অনেক শিল্পপতি ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনা অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করেছেন, অথচ তাঁরা নিজ জন্মএলাকায় শিল্পস্থাপনে এগিয়ে আসেননি। তাঁরা সে উদ্যোগ নিলে নিজ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের পক্ষে সহায়ক হবে, বেকার সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে।

শাহজাহান কামাল আশা প্রকাশ করেন যে, বৃহত্তর নোয়াখালীর সমস্যাসমূহের সমাধানের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ওবায়দুল কাদের যথাযোগ্য ভূমিকা রাখবেন। কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন। এ দায়িত্ব তিনি অনেক দেরিতেই পেয়েছেন; তবু শাহজাহান কামাল আশাবাদী যে, ওবায়দুল কাদের সারাদেশের সড়ক উন্নয়নের সাথে বৃহত্তর নোয়াখালীর সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বৃহত্তর নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবেন।

শাহজাহান কামাল একজন প্রাজ্ঞ, ত্যাগী রাজনীতিক; লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তিনি যথাযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। নোয়াখালী টেক্সটাইল মিল স্থাপনের উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন- যদিও পরবর্তীতে সে টেক্সটাইলটি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দিলে সে স্থলে জুতার কারখানা স্থাপিত হয়। নোয়াখালীতে ভাল উদ্যোক্তার পরিচালনায় নতুন করে একটি টেক্সটাইল মিল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে নোয়াখালীবাসী আশা করে।
 
     
lbheading